ম্যানিয়াক ডিপ্রেসিভ সাইকোসিস বা মানসিক অবদমনঃ
কোন প্রকার মানসিক আঘাত, উচ্চভিলা্সে বাধা, হতাশা, পারিবারিক অশান্তি প্রভৃতি কারণে মনে সর্বদা একটা দুঃখ, দুশ্চিন্তা, বিষন্নতা, উত্তেজনা ইত্যাদি দেখা যায়, মানসিক স্বাস্থ্যর এই অবস্থা কে ম্যানিয়াক ডিপ্রেসিভ সাইকোসিস বা মানসিক অবদমন বলা হয়। মূলত এটি একটি মানসিক রোগ এই রোগের জন্য ছোট শিশুরা স্মরণশক্তি হীনতায় ও পড়ালেখায় অমনযোগী, পরিবারের মধ্যে অশান্তি ইত্যাদি দেখা দেয়।
ম্যানিয়াক ডিপ্রেসিভ এর কারণঃ
- শিশুকালে কোন দুঃখ, মানসিক আঘাত পাওয়ার কারণে এ রোগ দেখা যায়
- কোন প্রকার মানসিক আঘাত, বস্তু বা অর্থনাশ, সম্পত্তি নষ্ট, সামাজিক কাজে হতাশা পারিবারিক অশান্তি ইত্যাদি এ রোগের অন্যতম কারণ
- খুব ছোট বয়সে পিতা মাতার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বড় হওয়ার কারণেও এ রোগ হতে পারে
- বংশগত কারণেও এ রোগ দেখা যায়
প্রকারভেদঃ
ম্যানিয়াক ডিপ্রেসিভ সাইকোসিসকে প্রধান তিন ভাগে ভাগ করা যায়-
1. ম্যানিয়া-এ পর্যায়ে মনের উত্তেজিত অবস্থা চরম পর্যায়ে থাকে
2. লুসিড-মনের স্বাভাবিক শান্ত অবস্থা বিরাজ করে
3. ডিপ্রেসিভ- বিষণ্ণতার অবস্থা
ম্যানিয়া বা উত্তেজিত অবস্থাকে আবার চার ভাগে ভাগ করা হয়-
হাইপোম্যানিয়া
একিউট ম্যানিয়া
একিউট ডিলিরিয়াস ম্যানিয়া এবং
ক্রনিক ম্যানিয়া
লক্ষণসমূহঃ
>সাধারণত ম্যানিয়াক ডিপ্রেসিভ সাইকোসিস-এ যে সমস্ত লক্ষণ আমরা দেখতে পাই সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দ্রুত কথা বলা, হঠাৎ উৎফুল্ল ভাব, চিন্তার স্বল্পতা, সবসময় বিষন্নতা, পেশী সঞ্চালনের অক্ষমতা, মাংসপেশির অস্বাভাবিক সঞ্চালন।
>এছাড়া রোগীর চিন্তাশক্তির দুর্বলতার জন্য কোন কাজে মন স্থির রাখতে না পারা
>সবসময় অপরাধবোধ আত্মগ্লানি মনে করা, কোন কিছুতেই মনের ভ্রান্ত ধারনা না যাওয়া
>রোগীর ঘুমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, সারারাত ঘুম আসবে আসবে করতে করতে পার হয়ে যায় কিন্তু ঘুম আসেনা
>বিষণ্ণতা ও পেশী সঞ্চালনের অক্ষমতা
>কোন কাজে হাত দিতে ভয় পাওয়া, মনের মধ্যে সবসময় যেন একটা অপরাধবোধ কাজ করতে থাকা
>দুঃখের ভারে নুয়ে পড়া, কোন কাজে মন না বসা, নীরবে চোখের জল ফেলা, জীবন যেন অসহায়তায় পরিপূর্ণ, এজন্য আত্মহত্য করে জীবনের সমাপ্তি টানতে চাওয়া
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা
ম্যানিয়াক ডিপ্রেসিভ সাইকোসিস রোগের চিকিৎসা করা অত্যন্ত জরুরী। কারণ এ রোগে আক্রান্ত হলে জীবন নিরানন্দে পরিণত হতে পারে, এজন্য রোগীকে বুঝাতে হবে তার পাগল হওয়ার কিছু নেই এটা একটা সাধারণ রোগ, চিকিৎসা করলে এটি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এ জন্য রোগীকে খেলাধুলা জনসমাগমস্থলে মেলামেশা করা, আনন্দ বিনোদনের মধ্যে থাকা ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে। রোগীর সম্পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন এবং খাবার দাবারের মধ্যে সর্বোচ্চ নজর দিতে হবে, কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখার জন্য প্রতিদিন শাকসব্জি ও ফলমূল খেতে হবে।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা
হোমিওপ্যাথিতে ম্যানিয়াক ডিপ্রেসিভ সাইকোসিস এর চিকিৎসা লক্ষণ অনুযায়ী করা হয়ে থাকে। এখানে যে সমস্ত ঔষধ অধিক ব্যবহার করা হয় সেগুলো হচ্ছে- এব্রোটেনাম, অরাম মেট, বেলেডোনা, হায়োসিয়ামস, এমব্রগ্রীসিয়া ইত্যাদি।
